গাব গাছ ও ফল – বৃক্ষের কথা – হুমায়ূন আহমেদ – Gab
Gach – Brikkher
kotha - Humayun Ahmed |
গাব গাছ ও ফল – বৃক্ষের কথা – হুমায়ূন আহমেদ – Gab
Gach – Brikkher
kotha - Humayun Ahmed
বাংলাদেশের বনেজঙ্গলে, ঝোপঝাড়ে একসময় প্রচুর গাবগাছ দেখা যেত। এখন তেমন দেখি না। শত শত নার্সারি হয়েছে, কোথাও খুঁজে গাবগাছ পাই নি। তাদের কাছে পাওয়া যায় নানান জাতের আম। ইদানীং যুক্ত হয়েছে বিদেশী ফল। ও ফুলের গাছ। গাবগাছের কৌলিন্য কোনো কালেই ছিল না। এখন আরো নেই। গ্রামে গাবগাছের কাঠ দিয়ে টেকি তৈরি হতো। এখন তো ঢেকিই উঠে গেছে। ধানের কলে ধানভানা হয়। মাছ ধরার জালের সুতা শক্ত করার জন্যে গাবের রস পাগনো হতো। এখনকার নাইলনের ফ্লানেলের সুতা শক্ত করার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। নৌকার তলায় গাবের রস লাগনো হতো, কাঠ পঁচে নষ্ট যেন না হয়। এখন আলকাতরা দেয়া হয়। সর্ব অর্থেই মনে হচ্ছে- “হে গাব বৃক্ষ! তোমাকে বিদায়।”
আমার শৈশবে নানার বাড়িতে প্রচুর পাকা গাব খেয়েছি। এমন কিছু অসাধারণ ফল না, ভবে শৈশবে সব ফলই অসাধারণ লাগে।
গাবগাছের কাঠ যে অতি বিখ্যাত আবলুস কাঠের গোত্রে (Ebony) পড়ে এই তথ্য কি আপনারা জানেন? মনে হয় জানেন না। আমি নিজেও অনেক দিন জানতাম না।
নুহাশ পল্লীর বাগানে দুটা গাবগাছ আছে। আদরযত্নে এরা তেমন অভ্যস্ত না বলে খানিকটা চিমসা মেরে আছে। যারা গাবগাছের চেহারা ভুলে গেছেন তাদেরকে নুহাশ পল্লীর বাগানে নিমন্ত্রণ।
গাছটির নোটিনিক্যাল নাম Diospyros peregrina, পরিবার হলো Ebenaceae.
গাবগাছের পাতা তরকারি করে খাওয়া হয়। শুনেছি খেতে খুব ভালো। মোচার ঘণ্টের মতো করে রাধতে হয়। রান্নার আগে পাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিতে হবে।
গাব এর ঔষধি ব্যবহার
আমাশয় : গাবগাছের ছালের রস, ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। ছাগলের দুধ জোগাড় করতে না পারলে ফার্মেসি থেকে 'আমাশার ওষুধ কিনে নেবেন। আমার মতে এটাই ভালো বুদ্ধি।
ডায়াবেটিসে : গাবগাছের ছালের রস এক চামচ করে ভোরবেলা যেতে হবে। ডায়াবেটিসে অসংখ্য ঔষধি বৃক্ষের উল্লেখ দেখি। কোনোটাই কি কাজ করে। আমি skeptical মানুষ।
ক্যানসারে : গলার এবং ক্লিভের ক্যানসারেও গাবগাছের রসের ব্যবহার আছে।
রসায়ন
গাব ফলে এবং গাছে আছে Tanin, Tannic acid এবং Malic acid, সামান্য Fatty oil, ভিটামিন C এবং ভিটামিন B Complex (ফলে)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন